বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডিশ রাজনীতিক লিও আহমেদ ২০২৬ সালের সুইডিশ পার্লামেন্ট (রিক্সডাগ) নির্বাচনে ভ্যানস্টার পার্টি (বাম দল)–এর প্রার্থী তালিকায় মনোনয়ন পেয়েছেন। স্টকহোম জেলার দলীয় সংগঠন সম্প্রতি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে, যেখানে লিও আহমেদের অন্তর্ভুক্তি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কাজ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং নীতিগত অবস্থানের কারণেই তিনি এই মনোনয়ন পেয়েছেন।

প্রায় দুই দশক ধরে সুইডিশ রাজনীতিতে সক্রিয় লিও আহমেদ বর্তমানে ভ্যানস্টারপার্টি মার্স্তা–সিগতুনা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠপর্যায়ের সংগঠন গড়ে তোলা, সদস্য সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ।

এর আগে তিনি ভ্যানস্টার পার্টি স্টকহোম জেলার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে দৃশ্যমান করে তোলে। দলীয় মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠক হিসেবে দক্ষতাই এবার সংসদ নির্বাচনের তালিকায় জায়গা করে দেওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

লিও আহমেদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে, সামাজিক কল্যাণনীতি জোরদার করা, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবিক ও ন্যায্য অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন।

তিনি বারবার বলে আসছেন, সুইডিশ কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি শক্ত না হলে সামাজিক বৈষম্য বাড়বে এবং অভিবাসী ও নিম্নআয়ের মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং ভাড়াবাসের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাকে তিনি সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০২২ সাল থেকে তিনি সিগতুনা পৌরসভার ভালস্তা এলাকায় বসবাস করছেন। পাশাপাশি তিনি পৌর মালিকানাধীন আবাসন কোম্পানি সিগতুনাহেম-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আবাসন খাতের বাস্তব সমস্যা ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে লিও আহমেদের এই মনোনয়নকে সুইডেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং অভিবাসী পটভূমির মানুষের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র, তখন একজন অভিবাসী পটভূমির রাজনীতিকের মূলধারার বাম রাজনীতিতে সামনে আসা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লিও আহমেদের মনোনয়ন সুইডেনের বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি প্রমাণ করে যে, সুইডিশ রাজনীতিতে ধীরে ধীরে হলেও অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদে জায়গা করে নিতে পারেন কি না, তা নির্ভর করবে ভোটারদের রায়ে। তবে মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়েই লিও আহমেদ ইতোমধ্যে সুইডিশ রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, ‍এমনটাই মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version