সুইডেনের উপপ্রধানমন্ত্রী এবা বুশ বলেছেন…
ইসলামকে সুইডেনে স্বাগত পেতে হলে দেশটির মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
তাঁর এই মন্তব্য দেশটির ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সুইডেনের খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটিক্স দলের নেতা এবং উপপ্রধানমন্ত্রী এবা বুশ, যিনি একাধিকবার জানিয়েছেন, ইসলামকে সুইডিশ মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং যারা সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে চান তাদের সেই মূল্যবোধ মানতে হবে। তিনি বলেছেন, মুসলিম যারা একত্রে মেলামেশা করে না, তাদের উচিত দেশ ছাড়াও বিবেচনা করা, এমন ইঙ্গিতসম্বলিত মন্তব্যও তিনি করেছেন।
তিনি আরও এসব সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যেমন শরীয়াহ আইন, গৌরব হত্যা, নারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ইত্যাদি সুইডেনের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বলে উল্লেখ করেছেন।সমর্থকদের মতে, বুশের মন্তব্যটি সুইডেনের দীর্ঘদিনের সমাজ সংহতি ও আইনগত কাঠামো রক্ষার নীতির প্রতিফলন। তাঁদের বক্তব্য, সুইডেনে বসবাসকারী সকলকে দেশটির আইন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতিকে সম্মান করতে হবে। এটি কোনো ধর্মের প্রতি বিরোধিতা নয়, বরং সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও সাধারণ নিয়মকানুন মানার কথা বলা হচ্ছে।
অন্যদিকে সমালোচকরা বুশের বক্তব্যকে বিভাজনমূলক ও ধর্মনির্ভর বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, এমন ভাষা ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই সুইডেনে নাগরিকদের মধ্যে থাকা মুসলিম সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই সমাজের অংশ হয়ে গেছে এবং তাঁদের প্রতি এমন মন্তব্য সামাজিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে।
এই বিতর্ক শুধু সুইডেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ইউরোপজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমাজ সংহতি, অভিন্ন মূল্যবোধ ও নাগরিক আইনের মধ্যে ভারসাম্য কেমন রাখা যায়, এই বড় প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘুরা দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছে এবং তাঁদের অধিকাংশই শান্তিপূর্ণভাবে সমাজে মিশে গেছে।
সামগ্রিকভাবে এই মন্তব্যটিকে কেবল এক রাজনৈতিক বিবৃতি হিসেবে না দেখে অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয়ের প্রেক্ষাপটে দেখছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন…
এটি সুইডেনে সংঘাতহীন বহুত্ববাদী সমাজ চর্চা রক্ষার প্রয়াস।
আবার অনেকে মনে করছেন…
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যে যে সংবেদনশীল ভারসাম্য, তা বিপন্ন হতে পারে।
সুইডেনের উপপ্রধানমন্ত্রী এবা বুশের ইসলাম নিয়ে করা মন্তব্যটি সমর্থক ও সমালোচকের মধ্যে বিতর্কের কারণ তৈরি করেছে এবং ইউরোপজুড়ে বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যের প্রশ্নকে আলোচনায় এনেছে।
