নেপাল ও তিব্বতে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ পর্তুগিজ নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে চারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সংস্থা লুসা-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘তিব্বত সফরকারী আরও দুই পর্তুগিজ নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এর ফলে দুর্যোগে নিখোঁজ হওয়া মোট পর্তুগিজ নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।’
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও নিখোঁজ ১,৩০০-রও বেশি মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এই দুর্যোগকে স্থানীয় অনেকে ‘আকস্মিক নদী সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষ আজ জানিয়েছে, তারা ২৭ জন বিদেশিসহ ৪৪৫ জন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পানি ও কাদার একটি বিশাল স্রোত স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে (লিসবনের সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিট) ‘ভোটেকোশি’ নদীতে আঘাত হানে। এর ফলে নেপালের তিমুরে, রাসুওয়াগাধি এবং সিয়াব্রুবেসি শহরগুলো সবচেয়ে বেশি লণ্ডভণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার এই পানি চীনের তিব্বত অঞ্চলেও প্রবেশ করেছে।
বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—নদীর পানি হঠাৎ উপচে উঠে তীব্র বেগে ছোট ছোট গ্রাম, বাঁধ, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর মানুষ প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটে পালাচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা শুরুতে এই দুর্যোগের স্থানে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছিল, তবে পরবর্তীতে তারা ঘটনাটিকে একটি বড় আকারের ‘ভূমিধস’ হিসেবে পুনর্শ্রেণিভুক্ত করেছে। ইউএসজিএস-এর মতে, নেপালের কোদারি থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ৫.২ মাত্রার এই বিশাল ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটে, যার ফলে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।
নেপাল সরকার উপদ্রুত এলাকাগুলোকে আগামী তিন মাসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগ কবলিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টার মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক দ্রুত সচল করার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল প্রশাসন।
