বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রদর্শিত হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য।

সাড়ে ৮ ফুট উঁচু ভাস্কর্যটির নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ বা ‘কমলা মহামারি’। এতে বিবস্ত্র ট্রাম্পের এক হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা, অন্য হাতে লম্বা গলফ ক্লাব। ক্লাবটির পাশে পৃথিবীর মতো দেখতে একটি গলফ বলও রয়েছে।

ভাস্কর্যটি ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও পরিচিত। এতে দেখা যায়, তুলনামূলক ছোটখাটো এক পোশাক পরা মানুষের কাঁধে চেপে বসে আছেন ট্রাম্প। মানুষটি কোনোমতে তাকে বহন করছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনকে যুক্ত করা ব্যস্ততম মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি সেখানে থাকার কথা।

ভাস্কর্যের বেদিতে খোদাই করে লেখা হয়েছে, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসে আছি। আমার ভারে সে তলিয়ে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব। শুধু তার পিঠ থেকে নামব না।’

ভাস্কর্যটির স্রষ্টা ডেনিশ শিল্পী জেন্স গ্যালশিয়ট বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পথে ট্রাম্প সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। এই ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, লড়তে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।’

২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো ভাস্কর্যটি তৈরিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্যালশিয়ট নিয়েছেন বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেররস নিউ ক্লোদস’ থেকে।

গল্পটিতে এক অহংকারী রাজা দামি পোশাক পরার ভ্রান্ত অহমিকায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে রাজপথে হাঁটেন। ভয় ও চাটুকারিতার কারণে কেউ তাকে নগ্নতার কথা বলার সাহস পায় না। শেষ পর্যন্ত এক শিশু সত্যিটা প্রকাশ করে দিলে রাজা হাসির পাত্রে পরিণত হন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের জন্য গ্যালশিয়টকে আমন্ত্রণ জানান ডেনমার্কের বামপন্থি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেন।

ট্রাম্পের ক্ষোভ বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন জানিয়ে ক্লাউসেন বলেন, ‘কারও চামড়া যদি এতই পাতলা হয় যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই ভাস্কর্য প্রদর্শন দেখে সহ্য করতে পারবেন না, তাহলে বিশ্বমঞ্চে তার জায়গা নেই।’

এর আগে গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ৩০) এবং চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়েছিল।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি স্থাপন নিয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ‘অরেঞ্জ প্লেগ’-এর ছোট সংস্করণ দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যে কেউ যাতে বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে এটি তৈরি করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ফাইল অনলাইনে দিয়েছেন গ্যালশিয়ট।

তবে ট্রাম্পের সোনালি ভাস্কর্য এটাই প্রথম নয়।

গত এপ্রিলে মিয়ামিতে তার নিজের গলফ কোর্সে উন্মোচন করা হয় ‘ডন কলোসাস’ নামে ১৫ ফুট উঁচু আরেকটি ভাস্কর্য। তবে সেখানে ট্রাম্পকে পোশাক পরা অবস্থায় মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া মিয়ামিতে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে নিজের দুটি বিশাল সোনালি ভাস্কর্য বসানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। সেই পরিকল্পনার একটি এআই-নির্মিত ভিডিওও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন তিনি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version