বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই সেবা বাণিজ্য সম্প্রসারণে এক যুগান্তকারী চুক্তি সই করেছে ইউরোপের অন্যতম দুই পরাশক্তি যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশের আইনজীবী, হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্ট্যান্ট) এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা কোনো ধরনের ভিসা ছাড়াই বছরে ৯০ দিন একে অপরের দেশে কাজ করার বিশেষ সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এই চুক্তিটিকে “যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সেবা খাতে করা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি” বলে অভিহিত করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে এটি গত দুই বছরে ব্রিটিশ সরকারের করা ষষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি।
পেশাজীবীদের কাজের সুবিধার পাশাপাশি সাধারণ ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের জন্যও এই চুক্তির আওতায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
ই-গেট সুবিধা: ব্রিটিশ পর্যটকেরা সুইজারল্যান্ডের বিমানবন্দরগুলোতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল গেট (E-gate) ব্যবহার করতে পারবেন।
ফ্রি রোমিং: কোনো ধরনের অতিরিক্ত রোমিং চার্জ ছাড়াই ব্রিটিশ নাগরিকেরা সুইজারল্যান্ডে নিজেদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য আগামী এক দশকের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ব্রিটিশ সেবা খাতের রপ্তানি বছরে ৫.২ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি করা। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ বৃহত্তম সেবা রপ্তানি বাজার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববাজারে এই চুক্তিটি অন্যান্য দেশের সাথে সেবা বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।
সুইজারল্যান্ড সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বিভাজনের বাজারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে থাকা এই দুটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার মাধ্যমে উন্মুক্ত বাজারের প্রতি শক্তিশালী বার্তা দিল।
২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত পুরাতন পণ্য-ভিত্তিক চুক্তিটিকে আধুনিকায়ন করে এই নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে কর্মী স্থানান্তর করতে চায়, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে; তবে বেতনের ন্যূনতম সীমা আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
তথ্যসূত্র: ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
