বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬   |   ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের ভুয়া ব্যাজ প্রদর্শন এবং রাস্তায় নকল তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সাধারণ চালকদের কাছ থেকে ‘মনগড়া’ ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে পর্তুগালের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়। জোসে, সার্জিও এবং জোসুয়ে নামের এই তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (GNR)-এর ভুয়া কর্মকর্তা সেজে প্রায় ৬ হাজার ইউরো হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাদের এই অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় ধারণা করছে, ইতিমধ্যেই অনেক চালক এই সুনিপুণ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজনরা প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়িচালকদের থামার সংকেত দিত। গাড়ি থামার পর তারা অত্যন্ত পেশাদার উপায়ে সরকারি কর্মকর্তার মতো দেখতে একটি পুলিশের ভুয়া ব্যাজ প্রদর্শন করত এবং নিজেদের ‘জিএনআর’ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত, যা সাধারণ চালকদের মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখত না।

প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে এবং দ্রুত টাকা হাতাতে তারা নিজেদের সাথে একটি পেমেন্ট টার্মিনাল বা পিওএস মেশিনও রাখত, যাতে চালকরা ঘটনাস্থলেই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারেন।

এই পুরো চক্রটি আলোয় আসে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মন্তেমোর-ও-নোভো (Montemor-o-Novo) এলাকার অ্যাভেনিদা গাগো কৌতিনহো সড়কে ঘটে যাওয়া একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পর। সেখানে একজন ৭১ বছর বয়সী প্রবীণ গাড়ি চালককে থামার নির্দেশ দেয় এই তিন সন্দেহভাজন।

গাড়ি থামার পর অভিযুক্তদের একজন (জোসে) নেমে এসে পুলিশের ব্যাজ দেখিয়ে বৃদ্ধকে জানান যে, তাঁর গাড়ির ব্রেক লাইট বা স্টপ লাইট কাজ করছে না। এই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য আইন অনুযায়ী ১০০ থেকে ২০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়।

ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি চালককে তাৎক্ষণিক টাকা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ‘সুযোগের’ কথাও বলে প্রতারকেরা। তারা জানায়, চালক যদি আদালতে না গিয়ে এখনই ঘটনাস্থলে জরিমানা পরিশোধ করেন, তবে মাত্র ৬০ ইউরো দিলেই পুরো বিষয়টি মিটে যাবে।

পুলিশের পরিচয় ও জরিমানার কথা বিশ্বাস করে আতঙ্কিত ভুক্তভোগী বৃদ্ধ তৎক্ষণাৎ জরিমানা দিতে রাজি হন এবং নিজের ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডটি অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন। এরপর জোসে পেমেন্ট টার্মিনাল আনার নাম করে নিজের গাড়ির দিকে যায় এবং কার্ডের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে। এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে তদন্ত শুরু করে আসল পুলিশ এবং এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র: সিএম 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version