সোমবার, ২৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ ব্যবসায়িক নেতারা সরকারকে একটি শক্তিশালী ‘ট্রেড বাজুকা’ বা কঠোর বাণিজ্যিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ চেম্বার্স অফ কমার্স সতর্ক করে বলেছে যে, যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ সরকার মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ প্রত্যাহার না করলে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের যে হুমকি ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সুরক্ষা কবচ এখন সময়ের দাবি।

ব্রিটিশ ব্যবসায়িক সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ এর আদলে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। এই বিশেষ ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহার করে যেকোনো আক্রমণকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেবল পণ্য বা পরিষেবা বাণিজ্যে শুল্ক নয়, বরং সরকারি ক্রয় কর্মসূচি, আর্থিক বাজার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব। বিসিসি-র মতে, ব্রিটেনকে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ‘বুলিং’ বা অন্যায্য চাপ থেকে রক্ষা করতে হলে মন্ত্রীদের হাতে বাজার প্রবেশাধিকার সীমিত করা বা বিনিয়োগ স্ক্রিনিংয়ের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করা জরুরি।

যুক্তরাজ্য সরকার ইতিমধ্যে আটটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট। তবে আমেরিকার মতো বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া ব্রিটেনের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয় আমেরিকার সাথে এবং দেশটিতে আমেরিকার প্রায় ৬৪০ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চললেও, ব্যবসায়িক নেতারা মনে করছেন ‘লাস্ট-রিসোর্ট টুলস’ বা চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাতে রাখা ছাড়া ব্রিটেনের বিকল্প কোনো পথ নেই।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version