বুধবার, ৩০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর দেশটিতে বসবাসরত পর্তুগিজ নাগরিকদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্রেক্সিটের গণভোটের পরের বছরগুলোতে নাগরিকত্ব নেওয়া পর্তুগিজের সংখ্যা ২৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম পাবলিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর থেকেই এই প্রবণতা স্পষ্ট হতে শুরু করে।

ব্রেক্সিটের আগে প্রতিবছর সাধারণত ৩০০ থেকে ৭০০ পর্তুগিজ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিতেন। তবে গণভোটের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৯ সালে তা ২ হাজারের বেশি হয়। ২০২১ সালে ৩ হাজারেরও বেশি পর্তুগিজ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেন।

যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার কয়েক বছর পরও এই সংখ্যা বেশি রয়েছে। ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৫৫০ জন পর্তুগিজ নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বর্তমানে বিদেশে বসবাসরত পর্তুগিজদের মধ্যে নিজ বসবাসের দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্যেই।

নাগরিক অধিকার

ব্রেক্সিট এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের আগে ভোগ করা বিভিন্ন অধিকার হারানোর আশঙ্কার সঙ্গে এই প্রবণতার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়ার মাধ্যমে পর্তুগিজ নাগরিকেরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারও নিশ্চিত করতে পারেন।

ব্রেক্সিটের প্রভাব যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপরও পড়ে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর পর্তুগালে বসবাসরত অনেক ব্রিটিশ নাগরিককে নিজেদের বসবাসের বৈধতা নতুন করে নিশ্চিত করতে হয়।

এদিকে, ব্রেক্সিটের সময়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পর্তুগিজদের পর্তুগালে পাঠানো অর্থের পরিমাণেও পরিবর্তন দেখা যায়। পাবলিকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়।

ব্রেক্সিটকে ঘিরে শুরুর দিকের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেলেও, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়া পর্তুগিজ নাগরিকের সংখ্যা এখনো ২০১৬ সালের গণভোটের আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version