ইরান-সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট এবার সরাসরি আঘাত হানছে ইউরোপের পর্যটন খাতে। জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির তীব্র ঘাটতির আশঙ্কায় চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন সতর্কবার্তার পর অনেক ব্রিটিশ নাগরিক বিদেশের ঝক্কি এড়িয়ে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যের ভেতরেই ছুটি কাটানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।
বিভিন্ন হলিডে পার্ক কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশীয় গন্তব্যগুলোতে বুকিংয়ের হার প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কর্নওয়াল, স্কটল্যান্ড এবং লিংকনশায়ারের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এলাকাগুলো। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এবং ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সতর্ক করেছে যে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিগগিরই ইউরোপের প্রধান আকাশপথগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
এদিকে জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য তাদের বিমান জ্বালানির জন্য অনেকাংশেই কুয়েতের ওপর নির্ভরশীল, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশটিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এছাড়া নতুন ইউরোপীয় সীমান্ত ব্যবস্থা কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ার কারণেও অনেক ভ্রমণকারী বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সব মিলিয়ে, অনিশ্চিত বিদেশ সফরের চেয়ে ব্রিটিশরা এখন নিরাপদ ঘরোয়া ভ্রমণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
