নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার। এরই অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ১১টি ‘অ্যাসাইলাম হোটেল’ বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ব্রিটিশ হোম অফিস। ২০২৯ সালের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলের পরিবর্তে বিকল্প ও স্থায়ী আবাসনে সরিয়ে নেওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, এটি তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ।
কোভিড মহামারীর সময় থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেলের ব্যবহার শুরু হয়, যা বর্তমানে প্রায় ২০০টি হোটেলে ৩০,০০০ মানুষের আবাসনে রূপ নিয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও জনঅসন্তোষ চলছে। বিশেষ করে গত বছরের আগস্টে রদারহ্যামের একটি হোটেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার মতো সহিংস বিক্ষোভের পর সরকার এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে তৎপর হয়েছে। অভিবাসন-বিরোধীরা একে ‘বিলাসবহুল জীবন’ বলে সমালোচনা করলেও রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে যে, এই হোটেলগুলো দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও উপযুক্ত নয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে হোম অফিস ২০২৯ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি নতুন আবাসন চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো হোটেলনির্ভরতা পুরোপুরি কমিয়ে এনে সামরিক ব্যারাকের মতো মৌলিক অবকাঠামোতে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া। তবে এই বিপুল পরিমাণ আবাসন ব্যয় মেটাতে যুক্তরাজ্যের ‘বৈদেশিক সাহায্য বাজেট’ থেকে অর্থ ব্যবহার করায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক ‘বন্ড’ এর দাবি, এর ফলে সিরিয়া বা আফ্রিকার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মানবিক সহায়তা কর্মসূচিগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ব্রিটিশ হোম অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত এক বছরে হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে এবং ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড। সরকার একদিকে যেমন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করছে, অন্যদিকে যাদের বসবাসের আইনগত অধিকার নেই তাদের দ্রুত বহিষ্কার এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
