বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬   |   ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের প্রথম ‘সুপার ইউনিভার্সিটি’ গঠন করতে একীভূত হয়েছে দেশটির দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

লন্ডনের ‘ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচ’ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের ‘ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট’ গত সোমবার এক যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে, তারা একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে ‘লন্ডন অ্যান্ড সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি গ্রুপ’ নামক একটি নতুন জোট গঠন করা হয়েছে, যা সংক্ষেপে ‘লেস’ নামে পরিচিত হবে।

ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই গ্রুপে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫০ হাজারেরও বেশি, যা এটিকে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবে।

একীভূত হলেও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব নামেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং তাদের নিজস্ব অ্যাকাডেমিক বিভাগ বজায় রাখবে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন, পড়াশোনা এবং স্নাতক সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে ‘লেস’ গ্রুপের একজন চ্যান্সেলর, গভর্নিং বডি এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী দল থাকবে।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর লেস গ্রুপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে গ্রিনউইচ, অ্যাভেরি হিল, মেডওয়ে এবং ক্যান্টারবেরি—এই চারটি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক জেন হ্যারিংটন একটি ‘সত্যিই দুর্দান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে সে সময় আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

হ্যারিংটন বলেন, ‘আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিগত এক বছর ধরে একটি উচ্চাভিলাষী সময়সূচি মেনে এবং এর আগে কখনো করা হয়নি এমন একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল তৈরি করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করা হয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর অর্থ হলো আমরা একটি মসৃণ রূপান্তর, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী দল এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিয়ে যাত্রা শুরু করছি, যাতে আমরা যুক্তরাজ্যের প্রথম সুপার-ইউনিভার্সিটি হিসেবে আমাদের সম্ভাবনা পূরণ করতে পারি।’

বিশ্ববিখ্যাত কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মাঝেই এই একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত এল।

গত মে মাসে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের শিক্ষা সংক্রান্ত একটি সিলেক্ট কমিটির সংসদ সদস্যরা সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং যেকোনো একটি বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইংল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা খাত একটি তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যা এখন প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্বের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আমরা জোরালো প্রমাণ পেয়েছি যে, জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’ তারা আরও যোগ করে, ‘এর পরিণতি কেবল শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, সম্প্রদায় এবং যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক শিক্ষাগত সুনামের জন্যও মারাত্মক হবে।’

ইউরোনিউজ


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version