মঙ্গলবার, ২৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে সরকার নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর দেশটির বাজারে ক্যানজাত খাবার, বোতলজাত পানি, রেডিও ও ব্যাটারির চাহিদা বেড়েছে। বিভিন্ন সুপারশপ ও অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রে এসব পণ্যের কয়েকটি ধরন ইতোমধ্যে মজুত শেষ হয়ে গেছে।

অনলাইন মুদি বিক্রেতা ওকাডো জানিয়েছে, তাদের কয়েক ধরনের বোতলজাত পানি মজুতের বাইরে চলে গেছে। বিনস ও স্যুপের মতো ক্যানজাত খাবারের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হিমায়িত খাবার বিক্রেতা আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের ক্যানজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভোক্তারা সরকারের সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। সুপারমার্কেট চেইন বুথসেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

এদিকে রবার্ট ডায়াস ও ম্যাপলিনের মতো খুচরা বিক্রেতারা রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি বাড়ার কথা জানিয়েছে। ম্যাপলিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অলি মার্শাল বলেন, সরকারের ‘বি রেডি’ ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। তিন দিনে প্রতিষ্ঠানটির টর্চলাইটের বিক্রি প্রায় চার গুণ এবং রেডিওর বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

জরুরি প্রস্তুতির সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রিপার্স শপ ইউকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও প্রচলিত পরিষেবার ওপর নির্ভরতা ছাড়াই ব্যবহার করা যায়—এমন পণ্যের বিক্রি ৬৫০ শতাংশ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিন স্বনির্ভর থাকার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তালিকায় রয়েছে বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি, কম্বল ও গরম পোশাক।

বৈরী আবহাওয়া, খরা, বন্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত ঝুঁকি এবং রাশিয়া ও ইরানের বৈরী কর্মকাণ্ডসহ নানা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে যুক্তরাজ্য। তবে সপ্তাহান্তে দেশটিতে দুটি ঝড় আঘাত হানার আগেই সরকার এই নির্দেশনা দিয়েছিল। সাধারণত ঝড়ের সময়ও জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি বেড়ে যায়।

দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, ইউরোপের অনেক দেশের মতো যুক্তরাজ্যও নাগরিকদের অন্তত তিন দিনের জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, বন্যা, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট কিংবা পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। তাঁর মতে, ঘরে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যেকে ভূমিকা রাখতে পারেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version