মঙ্গলবার, ২৪ই মার্চ, ২০২৬   |   ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিচালিত একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, তারা এই ঘটনাটিকে একটি ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদি-বিদ্বেষী ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলো ‘হাতজোলা’ নামক একটি সংস্থার, যারা ওই এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। হিব্রু ভাষায় ‘হাতজোলা’ শব্দের অর্থ হলো ‘উদ্ধার’।

লন্ডন দমকল পরিষেবা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে তারা প্রথম আগুনের খবর পায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে ৬টি ইঞ্জিন এবং ৪০ জন দমকলকর্মী পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৩টা ৬ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ায় পাশের একটি ফ্ল্যাট ব্লকের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

ব্রিটেনের ইহুদি নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ‘কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্ট’-র প্রধান নির্বাহী মার্ক গার্ডনার এই হামলাকে লিজ, রটারডাম এবং আমস্টারডামে ঘটা সাম্প্রতিক ইহুদি-বিদ্বেষী অগ্নিসংযোগের ঘটনারই ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রিটেনে ইহুদি-বিদ্বেষী অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর ম্যানচেস্টারে পবিত্র ইয়োম কিপ্পুর চলাকালীন হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার পর এটি লন্ডনের অন্যতম বড় ইহুদি-বিদ্বেষী নাশকতার ঘটনা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানে এমন হামলা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। বর্তমানে উত্তর লন্ডনের ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ইহুদি উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, বিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version