যুক্তরাজ্যের আতিথেয়তা খাতে উচ্চ কর এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক খরচের কারণে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মিশেলিন-স্টার প্রাপ্ত শেফ জেসন অ্যাথারটন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের রেস্তোরাঁগুলোর লোকসান মেটাতে এবং সামগ্রিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি এখন বিদেশে শাখা খোলার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। বর্তমানে ইতালির টাস্কান উপকূলে নিজের নতুন রেস্তোরাঁ ‘মারিয়াস’ এর উদ্বোধনী প্রস্তুতি নিতে থাকা এই শেফ বলেন, যুক্তরাজ্যে আতিথেয়তা খাতের ওপর করের হার পুরো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ, যা এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অ্যাথারটনের মতে, যুক্তরাজ্যে ভ্যাট ২০ শতাংশ হলেও আয়ারল্যান্ডে তা মাত্র ৯ শতাংশ এবং ইতালিতে ১০ শতাংশ। এই বিশাল পার্থক্যই বলে দেয় কেন ব্রিটিশ রেস্তোরাঁ মালিকরা হিমশিম খাচ্ছেন। ‘ইউকেহসপিটালিটি’-র তথ্যমতে, কোভিড-কালীন ছাড় উঠে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক কর বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি রেস্তোরাঁকে বছরে গড়ে ৩২ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত কর দিতে হচ্ছে। জেসন অ্যাথারটন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের যদি একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড না থাকত, তবে যুক্তরাজ্যে টিকে থাকা আমাদের জন্য অসম্ভব হতো। করের এই বোঝা অব্যাহত থাকলে সাধারণ রেস্তোরাঁগুলো অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে।”
ব্যবসায়িক চাপের মধ্যেও অ্যাথারটন সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প রাখার চেষ্টা করছেন। লন্ডনে যেখানে এক পাইন্ট বিয়ারের দাম ৭ পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে, সেখানে তিনি তা ৫ পাউন্ডের নিচে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিবার নিয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া যেন কোনো বিলাসিতা না হয়ে সাধারণ মানুষের আনন্দের অংশ থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যদি করের বোঝা না কমানো হয়, তবে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পাব ও রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই তারকা শেফ।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
