সোমবার, ২৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাজ্য গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিশ্চিত ভিসা এবং উচ্চ বেতনের চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি। সম্প্রতি বাংলাদেশে এই ধরণের প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবাস গমনেচ্ছুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সির পক্ষে ভিসার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

ব্রিটিশ সরকারের নিয়মানুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ভিসার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ইউকেভিআই এর ওপর নির্ভরশীল। কোনো আবেদনকারীর যোগ্যতা ও নথিপত্র যাচাই করেই কেবল ভিসা প্রদান করা হয়। ফলে যারা ‘গ্যারান্টিড ভিসা’র প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তারা মূলত প্রতারণার জাল বিছিয়েছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জাল লেটারহেড ব্যবহার করে ভুয়া কেয়ার-গিভার বা স্পন্সরশিপ অফার দেওয়া হচ্ছে। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান যথাযথ ইন্টারভিউ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সরাসরি নিয়োগপত্র পাঠায় না, তাই এ ধরণের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতারণা থেকে বাঁচতে প্রবাস গমনেচ্ছুদের সর্বদা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভিসার আবেদন পদ্ধতি, ফি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সর্বদা যুক্তরাজ্যের একমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট www.gov.uk ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

যদি কেউ যুক্তরাজ্যের ভিসা-সংক্রান্ত কোনো প্রতারণার শিকার হন বা কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা চক্রের খোঁজ পান, তবে তা সরাসরি অভিযোগ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিচয় গোপন রেখে এবং পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে BangladeshVisaFraud@fcdo.gov.uk এই ইমেইল ঠিকানায় রিপোর্ট করতে পারবেন। জনস্বার্থে এই সতর্কবার্তাটি মেনে চলার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version