বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে নিজেদের সদস্যপদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেই-এর সরকার দেশের ‘স্বাস্থ্য সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কির্নো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেছেন যে, গত ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে জাতিসংঘ মহাসচিবকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক নোটিশের এক বছর পর এই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ভিয়েনা কনভেনশনের নিয়ম অনুযায়ী, নোটিশ দেওয়ার ঠিক এক বছর পর সদস্যপদ বাতিলের এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়।
আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেলেও তারা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা একেবারে বন্ধ করছে না। বরং দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। মিলেই প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আর্জেন্টিনা নিজস্ব স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণে আরও বেশি সক্ষমতা ও নমনীয়তা পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে একে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকার প্রতি প্রেসিডেন্ট মিলেই-এর তীব্র অসন্তোষ কাজ করেছে। মিলেই এই সংস্থাকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার একটি হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন। আর্জেন্টিনার এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির অনুসারী হিসেবে দেখছেন, কারণ চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সমালোচনা করে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে একটি ‘ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
