পোল্যান্ডে গত বছর রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি নাগরিককে দেশটির নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। তবে এই রেকর্ড বৃদ্ধির মাঝেই দেশটির বর্তমান সরকার নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মকানুন আরও কঠোর করার জন্য নতুন আইনি সংস্কারের কাজ করছে। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১৯,১৩৫ জনকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি এবং এক দশক আগের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। পোল্যান্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসনের ফলেই এই বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাগরিকত্ব প্রাপ্তদের অর্ধেকেরও বেশি (১০,২৯৫ জন) হলেন ইউক্রেনের নাগরিক, যারা বর্তমানে পোল্যান্ডের বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী। ইউক্রেনীয়দের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিকত্ব পেয়েছেন বেলারুশীয়রা (৬,৫১৯ জন)। এরপর যথাক্রমে রয়েছেন রাশিয়ান (৭৬৩), ভিয়েতনামিজ (৪৯৭) এবং তুর্কি (১১৬) নাগরিকরা। বর্তমানে পোল্যান্ডে রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশির সংখ্যা ২০ লক্ষ ছাড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৫.৫ লক্ষই ইউক্রেনীয় হলেও ভারতীয় (২৬,১০০) এবং জর্জিয়ানদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রধানত দুটি উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। প্রথমটি হলো প্রাদেশিক গভর্নরের মাধ্যমে, যেখানে আবেদনকারীকে অন্তত ৩ বছর স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পোল্যান্ডে বসবাস করতে হয় এবং সুনির্দিষ্ট আয়, বাসস্থান ও পোলিশ ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। দ্বিতীয় উপায়টি হলো রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা। এই রুটে বসবাসের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
রেকর্ড সংখ্যার এই বৃদ্ধির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক-এর সরকার নাগরিকত্ব আইন কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম বসবাসের সময়সীমা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা, সমাজে অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ হিসেবে একটি বিশেষ পরীক্ষা চালু করা এবং রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতার রুটটিতেও এই কঠোর শর্তগুলো প্রযোজ্য করা। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “নাগরিকত্বকে একটি উপার্জিত অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে, কোনো আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র হিসেবে নয়।”
এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর পোল্যান্ডের অতি-ডানপন্থী বিরোধী দল ‘কনফেডারেশন’-এর নেতা জিশতফ বোসাক একে একটি “বিপজ্জনক পরিস্থিতি” বলে অভিহিত করেছেন এবং আইন দ্রুত কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল পিআইএস এবং বিরোধী মনোভাবাপন্ন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি বসবাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব করেছিলেন, যা গত জানুয়ারি মাসে পার্লামেন্টে নাকচ হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র: নোটস ফ্রম পোল্যান্ড
