আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি ১২ মে ২০২৬-এ তাঁর দপ্তরের পরবর্তী তিন বছরের (২০২৬-২০২৯) কৌশলগত পরিকল্পনা বা ‘স্টেটমেন্ট অফ স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনায় আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর ১০ লক্ষেরও বেশি পাসপোর্টের আবেদনের চাপ সামলাতে এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সাথে তাল মেলাতে এই আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই কৌশলের অধীনে সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের কাজ মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সীদের জন্য অনলাইন পাসপোর্ট নবায়ন সুবিধা বিশ্বজুড়ে চালু করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের সব আইরিশ দূতাবাসে অনলাইন লাইভ-চ্যাট সহায়তা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ৩ মিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মিশনে বায়োমেট্রিক কিওস্ক স্থাপন করা হবে, যা অ্যাপয়েন্টমেন্টের দীর্ঘ জট কমিয়ে আনবে।
আয়ারল্যান্ডে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের নির্ভরশীলদের জন্য বর্তমানে যে কাগুজে নথি জমা দিতে হয়, তা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘অ্যাটিপিক্যাল ওয়ার্কিং স্কিম’ সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি তিন মাস অন্তর একটি ‘পারফরম্যান্স ড্যাশবোর্ড’ বা অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যা ব্যবসায়ী ও নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে।
এই ডিজিটাল রূপান্তরের সময়ে দ্রুত ভিসা ও পাসপোর্ট প্রসেসিং নিশ্চিত করতে VisaHQ-এর আয়ারল্যান্ড হাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে রিয়েল-টাইম স্ট্যাটাস আপডেট এবং প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধা প্রদান করে, যা প্রশাসনিক ভুলের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। মূলত আয়ারল্যান্ডের ১০৭টি কূটনৈতিক মিশনকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ ও মেধা আকর্ষণ করাই এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে দেশটিতে কর্মরত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আগের চেয়ে কম জটিলতায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারবে।
তথ্যসূত্র: ভিসাএইচকিউ ডটকম
