বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে রাশিয়ার এক শীর্ষ নেতার মন্তব্যের পর। সম্প্রতি রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জকে-কে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো তুলে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে একটি মন্তব্য করেছেন, যা মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

মেদভেদেভ রোববার বলেছেন ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর আটককে উদাহরণ দিয়ে, অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের বিরুদ্ধেও এমন অপহরণ অভিযান কল্পনা করা যেতে পারে এবং এর সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে তিনি জার্মান চ্যান্সেলরের নাম ধরে বলেছেন। তিনি বলেন…

নব্য-নাৎসি মার্জকে অপহরণ করা এই ঘটনাপ্রবাহের এক চমৎকার মোড় হতে পারে।

তার যুক্তি ছিল, ফ্রিডরিখ মার্জ-এর বিরুদ্ধে জার্মানিতে নানা দায়ের অভিযোগ আছে এবং তাই এমন পরিস্থিতি মোটেও অবাস্তব নয়, এমন মন্তব্য করে তিনি পরিস্থিতিকে এক প্রকার হুমকিস্বরূপ উপস্থাপন করেন।

এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করে জার্মান সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি মুখপাত্র সেবাস্টিয়ান হিলে বলেন…

মেদভেদেভের মতামতগুলো লক্ষ্য করা হয়েছে এবং ফেডারেল সরকার এর মতো হুমকি ও বক্তব্যগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে…

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত ও নিরাপদ আছেন এবং কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না।

এই মন্তব্যটি আসছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিউইয়র্ক-এ বিচার চলছে। মেদভেদেভ ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে সমালোচনা করেন এবং একই কায়দা বিশ্ব নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেন, যার মধ্যে মার্জ-এর নামও এসেছে।

মেদভেদেভ বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচিত। তাঁর এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে বিরোধ সৃষ্টি করলে রাজনৈতিক উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে। জার্মান সরকার এধরনের বক্তব্যকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো দেশের নির্বাচিত নেতাকে অপহরণের মতো হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version