ফুটবল মাঠে ভেঙে গেল লিঙ্গবৈষম্যের আরও একটি বড় দেয়াল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস। পুরুষদের বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের মাঠের রেফারিদের (অন-ফিল্ড রেফারি) পুরো দলটাই ছিল নারী। আটলান্টার মাঠে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আমেরিকার তিন নারী রেফারি। মূল রেফারি তোরি পেন্সোকে লাইন্সম্যান বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে সাহায্য করেছেন ব্রুক মায়ো এবং ক্যাথরিন নেসবিট। ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ খেলার মাঠ থেকে শুরু করে পেন্সোর বিশ্বমঞ্চে আসার এই গল্পটি ফুটবল দুনিয়ায় কোটি নারীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নারীর দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনা এটি সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয়। এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফরাসি রেফারি স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট প্রথম পুরুষদের ম্যাচে রেফারি হিসেবে নাম লিখিয়ে এই নজির বা রেকর্ড গড়েছিলেন। আর এবার শুধু পেন্সোরাই নন, মেক্সিকোর কাতিয়া গার্সিয়াও রেফারি হিসেবে পুরুষদের এই বিশ্বকাপে মাঠ মাতানোর অপেক্ষায় আছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)-এর এই উদ্যোগ মূলত ফুটবলের শীর্ষ পর্যায় থেকে ছেলে-মেয়ের ভেদাভেদ বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ। বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মাঠে খেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে জেন্ডার বা লিঙ্গ নয়, বরং পারফরম্যান্স, যোগ্যতা আর নেতৃত্বই হবে একমাত্র মাপকাঠি।
সবুজ গালিচায় পেন্সোদের এই ঐতিহাসিক ম্যাচ পরিচালনা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
