গ্রীষ্মের পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই পর্তুগালের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে, বিশেষ করে লিসবন ও ফারো তে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য নবপ্রবর্তিত পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটি ও লোকবল সংকটে শত শত যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণের এই দীর্ঘ সারির কারণে অনেক যাত্রীর ফ্লাইট মিস হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে নবপ্রবর্তিত ‘ইউরোপীয় এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’। পাসপোর্টে সনাতন পদ্ধতিতে সিল মারার পরিবর্তে এখন ডিজিটাল বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধনের এই ব্যবস্থাটি চলতি মাসে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর থেকেই যান্ত্রিক জটিলতা শুরু হয়। লিসবনের উমবার্তো ডেলগাডো বিমানবন্দর দিয়ে গত বছর রেকর্ড ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন, ফলে বাড়তি চাপের মুখে এই নতুন প্রযুক্তিটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বাজেট এয়ারলাইন্স ‘রায়ানএয়ার’ পর্তুগাল সরকারকে অন্তত আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পর্যাপ্ত কিয়স্ক এবং কর্মী নিয়োগ না করেই এই জটিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
লিসবনের মেয়র এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন একে ‘পূর্বাভাসকৃত বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে পর্তুগালের পর্যটন ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। ইতিমধ্যে ইউরোপের অনেক দেশ গ্রীষ্মের পিক সিজন বিবেচনায় এই ব্যবস্থার প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও পর্তুগাল এখনো তেমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রীদের মাইলব্যাপী দীর্ঘ সারি এবং তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে, যা দেশটির ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস


