ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিরাপত্তা নিয়ে এক অভাবনীয় ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গ্রিস সফরের সময় তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইইউ-এর লিসবন চুক্তির ৪২ (৭) অনুচ্ছেদ বা ‘পারস্পরিক সহায়তা ধারা’ কেবল কোনো কাগুজে শব্দ নয়, বরং এটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের মুখে ন্যাটোর কার্যকারিতা যখন প্রশ্নের মুখে, তখন ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেন ও পর্তুগালের সম্মিলিত সামরিক সহায়তা পাঠানোকে তিনি ইউরোপীয় স্বয়ংসম্পূর্ণতার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার দিকে ইঙ্গিত করে সতর্ক করেছেন যে, ন্যাটোর স্তম্ভ এখন নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই যখন ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছেন, তখন ইউরোপকে ভূ-রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ম্যাক্রোঁ দীর্ঘকাল ধরে ‘ইউরোপীয় সার্বভৌমত্ব’ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখছেন, তাঁর এই বক্তব্য সেই অবস্থানেরই চূড়ান্ত প্রতিফলন। তিনি বলেন, “ইউরোপকে এখন জেগে উঠতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের বর্তমান নেতৃত্ব ইউরোপীয়দের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে।”
ম্যাক্রোঁর এই সফরে গ্রিস ও ফ্রান্সের মধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পারমাণবিক প্রযুক্তিসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তুরস্কের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিক থেকে কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে ফ্রান্স সবসময় গ্রিসের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিকে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জানিয়েছেন, লিসবন চুক্তির এই বিশেষ প্রতিরক্ষা ধারাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে তাঁরা একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ‘হ্যান্ডবুক’ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ইউরোপের পরিবর্তিত এই সামরিক কৌশল আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


