দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনা ও দর কষাকষির পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিক জোট ‘মারকোসার’ এর মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি গত শুক্রবার থেকে সাময়িকভাবে কার্যকর হয়েছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ৭০ কোটি গ্রাহকের এক বিশাল বাজার তৈরির লক্ষ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হলেও এর বৈধতা নিয়ে ইউরোপের ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই।
এই চুক্তির ফলে বিশ্বের মোট জিডিপি-র ৩০ শতাংশ ধারণকারী দুই অঞ্চলের মধ্যে লেনদেন হওয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে ইউরোপীয় গাড়ি, ওয়াইন এবং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য যেমন দক্ষিণ আমেরিকার দুয়ার খুলবে, তেমনি ব্রাজিল ও তার প্রতিবেশীদের গরুর মাংস, চিনি, চাল এবং সয়াবিন ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করা সহজ হবে। ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই চুক্তিকে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই বাজার সম্প্রসারণ ইউরোপের জন্য অপরিহার্য ছিল।
তবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপের কৃষিনির্ভর দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স এবং বিশেষ করে পোল্যান্ড এই চুক্তির কঠোর বিরোধিতা করছে। পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ ইতিমধ্যে চুক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকার সস্তা কৃষিপণ্য ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় কৃষকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউ একটি ‘সেফগার্ড ক্লজ’ যুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে মারকোসার থেকে আসা পণ্যের কারণে বাজারের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গেলে পুনরায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, আইনি লড়াই এবং স্থানীয় কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে এই বিশাল বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
তথ্যসূত্র: টিভিপি ওয়ার্ল্ড


