জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ট্রাকচালকদের বিক্ষোভের মুখে সড়কপথে পণ্য পরিবহন, কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে ইতালির মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার ভোরে এ সংক্রান্ত ডিক্রি অনুমোদনের আগে সিসিলি ও কালাব্রিয়া অঞ্চলের ট্রাকচালকেরা পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছিলেন। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহও ছিল।
ইতালির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মঘটের কারণে বিখ্যাত বাফেলো মোৎজারেলা পনির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এ খাতে আনুমানিক ৩০ লাখ ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। দুধ নেপলস অঞ্চলের পনির কারখানাগুলোতে পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি পনিরও ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার ডিক্রিটি আইনে পরিণত হওয়ার পর অনেক ট্রাকচালক ধীরে ধীরে খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছেন। তবে সামগ্রিক বিক্ষোভ এখনো থামেনি। বরং দক্ষিণ ইতালির আরও কয়েকটি বন্দরে ছড়িয়ে পড়েছে। ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক জাহাজও এখনো কাজ শুরু করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
নতুন ডিক্রিতে কৃষি খাতের জ্বালানি ব্যয় মেটাতে ৬ কোটি ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী ফ্রানচেস্কো লোলোব্রিজিদা জানিয়েছেন, কৃষি খাতের সহায়তা সংস্থা এজিয়ার (Agea) মাধ্যমে দ্রুত এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
‘সরকার বিক্ষোভকারীদের কথা শুনছে’
লোলোব্রিজিদা বলেন, বরাদ্দের অর্থ দিয়ে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ সেন্ট সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বছরের প্রথম ভাগে দেওয়া সহায়তার পর এবার ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কেনা কৃষি জ্বালানির ব্যয় মেটাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান কৃষিকাজের জন্য জ্বালানি কিনেছে, তারা এ সহায়তা পাবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জ্বালানি কেনার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা প্রকাশ করবে। নথি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সুবিধাভোগীদের সহায়তার অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, সড়কপথে পণ্য পরিবহন খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। সহায়তার অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক ও জেলেদের জন্য নতুন পদক্ষেপও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের কথা শোনে এবং সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে কাজ করে।’
মেলোনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসিকে পরিবহন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর দাবি বিবেচনায় নিতে বলেছেন তিনি। পণ্য ও সেবা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানো এবং সম্ভাব্য মূল্য কারসাজি ঠেকানো এর উদ্দেশ্য।
অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে
তবে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা এখনো কমেনি। নিজেদের দাবি থেকে সরে আসতে রাজি নন বিক্ষোভকারীরা।
অবকাঠামো ও পরিবহনবিষয়ক উপমন্ত্রী এদুয়ার্দো রিক্সি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জরুরি জনসেবা স্বাভাবিক রাখতে অবরোধ তুলে নিয়ে কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবরোধের কারণে কিছু এলাকায় জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। কাম্পানিয়ার মতো অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি স্কুলগুলোকে অনলাইনে পাঠদানেও যেতে হচ্ছে।
রিক্সি গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে দক্ষিণ ইতালিতে অবরোধ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভ সরিয়ে দিতে বাধ্য হওয়ার আগে কাজে ফেরার নির্দেশসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নেপলসের সুপারমার্কেটগুলো অনির্দিষ্টকাল খালি পড়ে থাকতে পারে না। পেট্রলপাম্পে জ্বালানি না থাকায় মানুষকে হেঁটে চলাচল করতে হবে, এটাও মেনে নেওয়া যায় না। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আলোচনায় পাওয়া জবাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


