পর্তুগালের ‘ভোল্টা’ ডিপোজিট-রিফান্ড ব্যবস্থার আওতায় রিসাইকেল করার জন্য জমা দেওয়া শত শত কুচকে যাওয়া বা ভাঙা বোতল ও ক্যান ওদিভেলাস এলাকার একটি বনাঞ্চলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বর্জ্যের উৎস এবং এর পেছনে কোনো জালিয়াতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এসআইসি ভেরিফিকা’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিকার্দো ফনসেকা নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক একটি ভিডিও পোস্ট করার পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। রাস্তার পাশে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরা শত শত সংকুচিত বোতল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার ওই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১৪ লাখেরও বেশি ভিউ হয়েছে।
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই পাত্রগুলো ইতিমধ্যে স্কিমের স্বয়ংক্রিয় মেশিনগুলোর মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। এর অর্থ হলো, ভোক্তারা এগুলো রিসাইক্লিংয়ের জন্য ফেরত দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কাউন্টিং ও সর্টিং সেন্টারে পাঠানো উচিত ছিল।
‘ভোল্টা’ ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংগঠন ‘এসডিআর পর্তুগাল’ (SDR Portugal) এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে এবং সব ব্যাগ ও পাত্র সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সামগ্রীগুলো কোথা থেকে এল এবং এর পেছনে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কালেকশন মেশিন থেকে পাত্রগুলো সংগ্রহ করে প্রসেসিং সেন্টারে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো ট্র্যাকিং পদ্ধতি আরও জোরদার করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।
এসডিআর পর্তুগাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভোল্টা ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা হওয়া পাত্রগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে কাউন্টিং ও সর্টিং সেন্টারে পাঠাতে হবে।’
রিকার্দো ফনসেকা এসআইসি ভেরিফিকা-কে জানান, কাজের সূত্রে ভ্রমণের সময় তিনি ব্যাগগুলো দেখতে পান এবং ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করার আগে কামারাতে পুলিশ থানাকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ জানিয়েছিল, সন্দেহভাজনের পরিচয়, গাড়ির নম্বর বা বর্জ্য ফেলে দেওয়ার কোনো ভিডিও বা প্রমাণ না থাকলে অভিযোগ নথিভুক্ত করা কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, এর আগে তিনি কখনো ওই এলাকায় যাননি এবং ব্যাগগুলো একসঙ্গে নাকি বেশ কিছুদিন ধরে ফেলা হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তবে তাঁর ধারণা, রাস্তা সংলগ্ন স্থানে থেমে কোনো যানবাহন থেকে এগুলো নামানো হয়ে থাকতে পারে।
ওদিভেলাস সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা একটি কোম্পানি গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বর্জ্যগুলো পরিষ্কার করে সরিয়ে নিয়েছে। তবে অপরাধী বা বর্জ্যের উৎস শনাক্ত করতে না পারায় কাউন্সল এখনও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পৌর কর্তৃপক্ষ এসডিআর পর্তুগালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে সংগ্রাহক ও পরিবহনকারীদের শনাক্ত করতে বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো আরও কঠোর করা যায়।
এছাড়া মিউনিসিপ্যালিটি সংগ্রহের ব্যাগে সিল বা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করছে, যা কর্তৃপক্ষকে বর্জ্যের গতিপথ ট্র্যাক করতে সাহায্য করবে।
জাতীয় আইন অনুযায়ী, জঙ্গলে বা জনশূন্য স্থানে বর্জ্য ফেলে দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর পরিবেশগত অপরাধ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন ও পরিবেশগত অপরাধের কাঠামো অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিকদের জন্য অবহেলার কারণে জরিমানা ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধের জন্য ৩০,০০০ থেকে ৩৭,৫০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে কোম্পানির ক্ষেত্রে এই জরিমানা অনেক বেশি; অবহেলার জন্য ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ সংঘটিত হলে ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ (২.৫ মিলিয়ন) ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
বর্জ্যগুলো পরিষ্কার করা হলেও ওদিভেলাসে এই অবৈধ ডাম্পিংয়ের প্রকৃত দায় কার, তা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এসডিআর পর্তুগালের তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই পরিষ্কার হবে যে কীভাবে বোতলগুলো কালেকশন সিস্টেম থেকে বের হয়ে গ্রামীণ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় গিয়ে পৌঁছাল।


