ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে গ্রিস ও সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে ইসরায়েলপন্থী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। এরই অংশ হিসেবে গ্রিক-শাসিত সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে ইসরায়েল অ্যালাইস ফাউন্ডেশনের (আইএএফ) স্থানীয় শাখা গঠন করেছেন দেশটির তিনটি রাজনৈতিক দলের ছয় আইনপ্রণেতা। এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পর তুরস্ককে দুই দেশের ‘সাধারণ শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট জশ রেইনস্টাইন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদুলিদেসের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পার্লামেন্টে নতুন শাখা গঠনের ঘোষণা দেন রেইনস্টাইন।
সাইপ্রাসের ডানপন্থী ডিআইএসওয়াই, মধ্যপন্থী ডিআইকেও এবং জাতীয়তাবাদী ইএলএএম দলের ছয় আইনপ্রণেতা এ শাখা গঠন করেন। এর কয়েক দিন পর গত বুধবার সাইপ্রাস সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) একটি প্রতিনিধিদল।
আইপ্যাকের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট বার্নার্ড কামিনেৎস্কি এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত ইয়েহুদা নিউবার্গারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি ক্রিস্টোদুলিদেসের সঙ্গে বৈঠক করে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েল, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল সফরের ঘোষিত উদ্দেশ্য।
আইএএফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূত সুলি দাভিদোভিৎস বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক নিরাপত্তাস্বার্থ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এ সম্পর্কের ভিত্তি।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিআইএসওয়াই দলের জর্জ কারুল্লাস ও হারালাম্বোস পেত্রিদেস, ইএলএএম দলের সোতেরিস ইয়োনু ও মারিওস পেলেকানোস এবং ডিআইকেও দলের আন্দ্রেয়াস আপোস্তোলু ও ক্রিসিস পান্তেলিদেস উপস্থিত ছিলেন। পান্তেলিদেস স্থানীয় শাখাটির নেতৃত্ব দেবেন।
অনুষ্ঠানে সাইপ্রাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভাসিলিস পালমাস, ডিআইকেও সভাপতি নিকোলাস পাপাদোপোলুস এবং দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন ব্রেসলোও উপস্থিত ছিলেন।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেওয়ার কারণে আইএএফের সমালোচনাও হয়েছে। সংগঠনটির সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টে এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রিসের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তিন পক্ষের যৌথ বিমান ও নৌমহড়া বাড়ানো হবে।
গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার খবরেও উদ্বেগ জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাইপ্রাসে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তুর্কি সাইপ্রাসিদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে তুরস্কের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় আইএএফের প্রেসিডেন্ট জশ রেইনস্টাইন দেশটিকে দুই পক্ষের ‘সাধারণ শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেন। এ মন্তব্য পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও সামনে এনেছে।


