ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ ও কাছের লা ভেরিয়ের এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এ হামলা চলে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
ত্রাপ শহরের মেয়র আলি রাবেহ বলেন, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়ি চালানোর সময় পথে যাঁদের পেয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের রেনো ক্লিও গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গুলি চালান ওই ব্যক্তি। মেয়র বলেন, হামলাকারী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করতে চেয়েছিলেন।
রাবেহ জানান, লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যাওয়ার আগে হামলাকারী ত্রাপের একটি পেট্রল স্টেশন, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠে গুলি চালান।
পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এন১০ মহাসড়কের পাশে লা ভেরিয়ের এলাকা থেকে সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেয়র আলি রাবেহ বলেন, নিহত ব্যক্তি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছিলেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজন উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। তাঁর মতে, হামলার পেছনে বর্ণবাদ এবং সম্ভবত ইসলামবিদ্বেষের যোগসূত্র থাকতে পারে।
এদিকে, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে এ হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


