ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। অর্থনীতি ও ইউরোপের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রশ্নে আবারও আলোচনায় এসেছে ইইউতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি। এবার নিজের জীবদ্দশায় যুক্তরাজ্যকে ইইউতে ফিরতে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
তবে এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্রিটিশ জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। ইইউতে ফেরা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণেরই হওয়া উচিত বলে মনে করেন বার্নহাম।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইটিভির ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক রিচার্ড মেডলি জানতে চান, যুক্তরাজ্যকে আবার ইইউতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যই কি বার্নহামের জন্ম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন?
জবাবে বার্নহাম বলেন, বিষয়টিকে তিনি এভাবে দেখেন না। বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও কার্যকর করা এবং ব্রিটিশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করাই তাঁর দায়িত্ব।
পরে উপস্থাপক সুসানা রিড সরাসরি জানতে চান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাজ্যকে আবার ইইউর সদস্য হিসেবে দেখতে চান কি না। জবাবে বার্নহাম বলেন, নিজের জীবদ্দশায় এমনটা দেখতে চান তিনি। তবে জনগণের মতামতকে পাশ কাটিয়ে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরুর বিষয়ে বার্নহাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, ব্রেক্সিটের পর কার্যকর হওয়া সমঝোতা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে সম্পর্কের নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা জরুরি।
এ ধরনের আলোচনা সমাজে বিভেদ বাড়াবে বলেও মনে করেন না তিনি। বরং ভিন্নমতের মানুষদের কাছাকাছি আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ আলোচনা।
এর আগে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণেও বার্নহাম বলেছিলেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সমঝোতা পুনর্বিবেচনার পর শেষ পর্যন্ত ইইউতে ফিরে যাওয়াই সেরা বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
তবে আগামী নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্যকে ইইউতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।


