রবিবার, ২৯ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি এবং নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারালেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী। খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী জিনিয়া তাসনিমের অভিযোগ, তার একাডেমিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ‘ভেরিফিকেশন ফি’ সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। স্বপ্নভঙ্গের এই ঘটনায় ঢাবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, জিনিয়া সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের পর নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে। সুইডিশ ভর্তি কর্তৃপক্ষ ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছে ভেরিফিকেশনের আবেদন করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উল্টো ‘ফি’ দাবি করা হয়। কিন্তু ‘ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশনস ইন সুইডেন’ কোনো ভেরিফিকেশন ফি প্রদান করে না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীকে এই ফি’র বিষয়ে আগে জানানো হয়নি এবং ফি না পাওয়ায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ তথ্য সরবরাহ করেনি। ফলে প্রয়োজনীয় ক্রেডিট থাকার পরও জিনিয়াকে ‘আনকোয়ালিফায়েড’ ঘোষণা করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ।

জিনিয়া আক্ষেপ করে জানান, কেবল ভেরিফিকেশন ফি নয়, নথিপত্র তুলতেও তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ২ হাজার ৮০০ টাকা জরুরি ফি দিয়েও সাত দিনের কাজ শেষ করতে তার দুই সপ্তাহ সময় লেগেছে। এমনকি কর্মকর্তাদের টেবিলে পড়ে থাকা ফাইলের স্তূপ থেকে তাকে নিজেকেই নিজের নথি খুঁজে বের করতে হয়েছে। 

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন এবং রেজিস্ট্রারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের এই তদন্তে জিনিয়ার হারিয়ে যাওয়া একটি বছর আর বিদেশের মাটিতে পড়ার স্বপ্ন কতটুকু ফিরে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version