বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’ এর ২০২৬ সালের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার প্রকাশিত এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে টাইম ম্যাগাজিন একটি বিশেষ প্রোফাইল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও ৫৭ বছর বয়সী এই নেতা লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তিনি দেশে ফেরেন এবং গত ফেব্রুয়ারিতে এক নজিরবিহীন নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে জাতীয় নেতায় পরিণত হন।
প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাঁর মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। টাইম-এর মতে, সেই গভীর শোকাতুর অবস্থার মধ্যেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে যে, বর্তমানে তারেক রহমানের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তরুণদের বেকারত্ব দূর করা এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো এখন সময়ের দাবি। ২০০০-এর দশকের দুর্নীতির অভিযোগ (যা পরবর্তীতে আদালত খারিজ করেছে) নিয়ে টাইম মন্তব্য করেছে যে, তাঁর রাজনৈতিক প্রস্তুতির সময় হয়তো কম হবে, তবে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ফেরা তারেক রহমান আর সময় নষ্ট করতে নারাজ।
বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কেবল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সমগ্র জাতিকে বিশ্বমঞ্চে সম্মানিত করেছে।
