সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সিস্টেমে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ গ্রাহকদের। কারও এনআইডিতে নিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখাচ্ছে ৫০টি, তো কারও ক্ষেত্রে তা কয়েক শ ছাড়িয়ে গেছে। একজনের নামে বিপুল সংখ্যক ফোন নিবন্ধনের এমন তথ্যে গ্রাহকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে সরকার ও বিটিআরসি বলছে, এটি কোনো জালিয়াতি নয়, বরং দীর্ঘ বছরের পুরনো তথ্য বা ‘হিস্টোরিক ডেটা’ সিস্টেমে মাইগ্রেশনের সময় সৃষ্ট একটি কারিগরি জটিলতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুম বিল্লাহ নামে এক ব্যবহারকারী জানান, তার এনআইডিতে ৫৩টি হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত দেখাচ্ছে, যার মধ্যে ৪২টিই নিবন্ধিত হয়েছে গত ডিসেম্বর মাসে। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের এনআইডিতেও একাধিক হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের তথ্য মিলেছে।
এই বিভ্রান্তির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (আইসিটি ও টেলিকম বিভাগ) ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় ৩ বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট পাওয়া গেছে। অপারেটররা তাদের সিস্টেমে থাকা বহু বছরের পুরনো তথ্য এই নতুন সিস্টেমে যুক্ত করেছে। ডেটা মাইগ্রেশনের সময় কারিগরি কারণে তারিখটি ‘বর্তমান সময়ের’ দেখাচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা মনে করছেন হঠাৎ করেই তাদের নামে এতগুলো হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত হয়ে গেছে।
একই এনআইডির বিপরীতে এত বেশি হ্যান্ডসেট দেখানোর পেছনে অতীতের সিম ব্যবহারের নীতিমালার একটি যোগসূত্র রয়েছে। ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব বলেন…
বাংলাদেশে অতীতে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে প্রথমে ২০টি এবং পরবর্তীতে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল। বর্তমানে এটি ১০টিতে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এনইআইআর ম্যাপিংয়ের সময় এনআইডির বিপরীতে ওই সব পুরনো সিম ও তাতে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের তথ্য মেলাতে গিয়ে সংখ্যাটি অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে।
সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রদর্শিত অসংগতিপূর্ণ ডেটাগুলো ধীরে ধীরে ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে ফেলা হবে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই কারিগরি ত্রুটি সংশোধনে কাজ শুরু করেছে। এনইআইআর সিস্টেমটি ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কিছু নতুন ফাংশনাল ফিচার যোগ করে সিস্টেমটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে পুনরায় সচল করেছে।
সরকার জানিয়েছে, এনইআইআর ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য তিনটি। বাজারে থাকা অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ দমন ও গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে বৈধ আমদানিকারকদের সুরক্ষা দেওয়া।
বিটিআরসি জানিয়েছে, প্রাথমিক এই কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে উঠলে গ্রাহকরা তাদের এনআইডিতে ঠিক কতটি সক্রিয় হ্যান্ডসেট রয়েছে, তার সঠিক তথ্য নিয়মিত দেখতে পাবেন।
