সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স । চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর নীতি ও বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দেশজুড়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার থেকেই (১০ সেপ্টেম্বর) ‘ব্লোকঁ তু’ কর্মসূচি পালন করেছেন হাজারো তরুণ। ফরাসি ভাষায় ‘ব্লোকঁ তু’ অর্থ সবকিছু অচল বা বন্ধ করে দেওয়া। এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু করেছে বামপন্থীরা। গত সোমবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বায়রু। এরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবাস্টিয়ান লোকনুর নাম ঘোষণা করেন ম্যাখোঁ। বুধবার তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। ঠিক এদিনই বিক্ষোভ শুরু হলো।
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো জানিয়েছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভগুলো ম্যাখোঁবিরোধী আগের আন্দোলনের তুলনায় তুলনামূলক শান্তই ছিল।
লিয়নে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফ্লোরেন্ট নামের এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন…
নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে প্রধানমন্ত্রী করা আসলে আমাদের মুখে চপেটাঘাতের মতো। আমরা তার বারবার সরকার পরিবর্তনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, এখন সত্যিকারের পরিবর্তন চাই।
ফ্লোরেন্ট
‘ব্লোকঁ তু’ নামের এ আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাইরুর প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁট নীতি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য আর বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এ আন্দোলনের প্রধান প্রেরণা হয়ে উঠেছে বলে ফরাসি পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা অনেকটা ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভের মতো। তখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব নীতির বিরুদ্ধে হলুদ জ্যাকেট পরা মানুষজন দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে সহিংস রূপ নিয়েছিল এবং ম্যাখোঁর প্রথম মেয়াদকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
