ব্রাসেলসে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলন ইউক্রেনের ঋণ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সম্মেলনের শুরুতেই ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণের ওপর হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তাঁর ‘ভেটো’ বা নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অরবান এই ঋণের বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরিতে তেল সরবরাহে ইউক্রেনীয় বাধার সাথে যুক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাঙ্গেরি যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের তেলের নিশ্চয়তা না পাবে, ততক্ষণ ইউক্রেনের জন্য কোনো অনুকূল সিদ্ধান্তে তারা সমর্থন দেবে না।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা অরবানের এই অনড় অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন ইইউ কর্মকর্তার মতে, কস্তা সরাসরি বলেছেন যে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি ইইউ চুক্তিতে বর্ণিত সদিচ্ছা ও আন্তরিক সহযোগিতার নীতি সরাসরি লঙ্ঘন করে। ইউক্রেন ইস্যুর পাশাপাশি সম্মেলনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আলোচনার পথ সুগম করতে অন্তত কয়েক দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া ২৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। এছাড়া জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ইউরোপের অর্থনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতারা। এই সংকটের ফলে সাধারণ গৃহস্থালি ও শিল্পের ওপর যে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে সম্মেলনে এখনো বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
