মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক ঐতিহাসিক ও কৌশলগত অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা তাদের সমস্ত স্বর্ণের মজুদ সরিয়ে নিয়েছে।  ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে নিউইয়র্কের ভল্ট থেকে ১২৯ টন স্বর্ণ যা ফ্রান্সের মোট মজুদের প্রায় ৫ শতাংশ সরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটি ১২.৮ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩ বিলিয়ন) মূলধনী মুনাফা অর্জন করেছে। বর্তমানে ফ্রান্সের মোট ২,৪৩৭ টন স্বর্ণের মজুদের পুরোটাই প্যারিসের নিজস্ব ভল্টে সংরক্ষিত, যা দেশটিকে স্বর্ণ মজুদের দিক থেকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে ধরে রেখেছে।

ইওরোপিয়ান ট্যাক্সপেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মাইকেল জাগার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন অত্যন্ত ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বা অনিশ্চিত মানুষ; রাজস্ব আদায় বা রাজনীতির স্বার্থে তিনি যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন। এই আশঙ্কার কারণেই ইউরোপের দেশগুলো এখন ওয়াশিংটনের ভল্টে নিজেদের সম্পদ রাখা নিরাপদ মনে করছে না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের দেশগুলো যখন অর্থকড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের বিনিময়ে ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ গ্রহণ করে এবং তা নিজেদের ফেডারেল রিজার্ভে জমা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র পাল্টে গেছে।

তবে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলরয় ডি গ্যালহাউ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক নয়, বরং সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত ২০০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরনো ও নিম্নমানের স্বর্ণের বারগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার ভল্টে থাকা পুরনো সোনা পরিশোধন করে প্যারিসে আনার চেয়ে সেগুলো রেকর্ড উচ্চমূল্যে বিক্রি করে ইউরোপীয় বাজার থেকে নতুন ‘বুলিয়ন’ কেনাকেই ব্যাংক লাভজনক মনে করেছে। ২৬টি ধাপে সম্পন্ন হওয়া এই লেনদেনের ফলে গত বছরের বিশাল লোকসান কাটিয়ে ২০২৫ সালে ব্যাংক ৮.১ বিলিয়ন ইউরো নিট মুনাফা অর্জন করেছে।

 বর্তমানে ফ্রান্সের সমস্ত স্বর্ণ প্যারিসে এবং জার্মানির কিছু স্বর্ণ মিউনিখে সংরক্ষিত রয়েছে। ফ্রান্সের এই সাফল্য এখন জার্মানিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে দেশটির প্রায় ৩৭ শতাংশ স্বর্ণ এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version