মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক উদ্যোগে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানালেও জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ প্রধান মিত্ররা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রান্সআটলান্টিক মৈত্রীর কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস এই ইস্যুতে অস্বাভাবিক স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই অভিযানের বিষয়ে ইউরোপের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি এবং এই যুদ্ধের লক্ষ্য বা সফলতার কোনো সন্তোষজনক পরিকল্পনাও তাদের কাছে নেই।
জার্মানির সুরেই সুর মিলিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সরাসরি বলেছেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি।” একইভাবে ফ্রান্সও এই সংঘাতের পক্ষ হতে রাজি নয়। ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, এমন এক অনিশ্চিত ও উদ্দেশ্যহীন যুদ্ধে জড়িয়ে তারা নিজেদের নাগরিকদের বিপদে ফেলতে চান না। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েনের মাঝে নতুন কোনো সামরিক ঝুঁকি নিতে তারা আগ্রহী নন। এমনকি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইরানের ওপর হামলাকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্পেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধের ট্রাম্পের হুমকিকেও উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইউরোপীয় জনমতও এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ৪৯ শতাংশ, স্পেনে ৬৮ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৫৮ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের বিরোধী। এমনকি জার্মানির উগ্র-ডানপন্থি দল ‘এএফডি’ও ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে তেলের দাম কমাতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
