শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৩০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন থেকে পালিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জুনের শেষে এই সংখ্যা ৪৪ লাখ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত মে মাসের তুলনায় জুনে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা ইউক্রেনীয়র সংখ্যা বেড়েছে ২৪ হাজার ৩৮০ জন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইউক্রেনীয় অস্থায়ী সুরক্ষা পেয়েছেন জার্মানিতে। জুনের শেষে দেশটিতে এ সুবিধার আওতায় ছিলেন ১২ লাখ ৮৬ হাজার ২৩০ জন। ইইউতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মোট ইউক্রেনীয়র ২৯ দশমিক ২ শতাংশই জার্মানিতে অবস্থান করছেন।

এরপর রয়েছে পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র। পোল্যান্ডে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন ৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭০ জন এবং চেক প্রজাতন্ত্রে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮১০ জন।

মে মাসের তুলনায় জুনে ইইউর ২৭টি দেশের মধ্যে ২৪টিতেই অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এই এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইতালিতে—৪ হাজার ১১৫ জন। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রে ৩ হাজার ৮৩৫ জন এবং জার্মানিতে ২ হাজার ৯৬০ জন বেড়েছে।

অন্যদিকে, ইইউর মাত্র তিনটি দেশে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে পোল্যান্ডে, ৬ হাজার ৩৩৫ জন। এছাড়া বেলজিয়ামে ৩৫ জন এবং আয়ারল্যান্ডে ১৫ জন কমেছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে ইইউতে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই ইউক্রেনের নাগরিক। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ২৭ শতাংশ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। তাদের সুরক্ষা দিতে ২০২২ সালের ৪ মার্চ অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে ইইউ।

প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইউরোপীয় কাউন্সিল এর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ইউক্রেনীয় বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version