সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬   |   ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইপ্রাসে বসবাসরত আন্তর্জাতিক ও অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের গত ২৮শে মে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই ইতিবাচক চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ‘অ্যাসাইলাম ইনফরমেশন ডাটাবেজ’ বা এআইডিএ (AIDA)-এর কান্ট্রি রিপোর্টে সাইপ্রাসে আইনগতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপের সুফল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিরা এখন থেকে সাইপ্রাসের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বা ‘জিইএসওয়াই’ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা দেশটির সাধারণ নাগরিক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের  অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মতো একদম সমান শর্তে সাধারণ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। স্বাস্থ্যসেবার এই বড় পরিবর্তনের ফলে অভিবাসীদের চিকিৎসা পাওয়ার পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও বৈষম্যহীন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসার পাশাপাশি অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক সুযোগ তৈরি করেছে সাইপ্রাস সরকার। এই ব্যবস্থার আওতায় তারা এখন এককালীন আর্থিক অনুদান পাওয়ার পাশাপাশি কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিশেষ সুবিধার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা খুব দ্রুত দেশটির মূল শ্রমবাজারে যুক্ত হতে পারছেন এবং তাদের সন্তানরা কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি স্থানীয় স্কুলগুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সাইপ্রাসে মোট ২৪ হাজার ৮২৩ জন অস্থায়ী সুরক্ষা প্রাপক অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। দেশটির সরকারের নেওয়া এই নতুন পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো—বিপদে পড়ে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মৌলিক ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর সহজ লভ্যতা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও সহজ করে তোলা হচ্ছে, যাতে তারা খুব দ্রুত সাইপ্রাসের মূল সমাজের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে বা একীভূত করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version