ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্তে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনা বা ‘পুশব্যাক’ আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে, যা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বিভিন্ন এনজিওর একটি জোট প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউ সীমান্তে প্রায় ৮০,৮৬৫টি পুশব্যাকের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ কম, যা প্রমাণ করে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আগের চেয়ে কিছুটা স্বচ্ছতা ও মানবিকতা ফিরছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে বলকান রুটের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে মিশরীয় নাগরিকসহ অনেক অভিবাসীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এখনও অনেক মানুষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন, তবে পুশব্যাক এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়াকে মানবাধিকার রক্ষায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখানে ‘পুশব্যাক’ বিষয়টি সহজভাবে বোঝা জরুরি। পুশব্যাক বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের বিতর্কিত সীমান্ত পদ্ধতি, যেখানে কোনো অভিবাসী বা আশ্রয়প্রার্থীকে সীমান্তে আটক করার পর তার কোনো কথা না শুনে বা তাকে আশ্রয়ের আবেদন করার আইনি সুযোগ না দিয়েই জোর করে সীমান্ত থেকে আগের দেশে বা অন্য কোনো দেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি একটি নিষিদ্ধ প্রক্রিয়া, কারণ প্রত্যেক অভিবাসীর অধিকার আছে তার বিপদ বা আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানোর। ২০২৫ সালের এই নতুন পরিসংখ্যানে সেই বেআইনি প্রক্রিয়ার হার কমে আসায় আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
