ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী ১০ই এপ্রিল ২০২৬ থেকে ইউরোপের ২৭টি দেশসহ সেনজেন এলাকার মোট ২৯টি দেশে পাসপোর্টে ঐতিহ্যবাহী সিল বা স্ট্যাম্প মারার পদ্ধতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে কার্যকর হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’, যা মূলত সীমান্ত নিরাপত্তাকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করাবে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আগামী শুক্রবার থেকে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে।
নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাসপোর্ট স্ট্যাম্পের বদলে ভ্রমণকারীদের সমস্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেসে সংরক্ষিত হবে। এখন থেকে সীমান্তে প্রবেশের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের আঙুলের ছাপ এবং মুখাবয়ব শনাক্তকরণ বা ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মুখোমুখি হতে হবে। এই সিস্টেমের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত নিরাপত্তা কয়েক গুণ জোরদার করা, পরিচয় জালিয়াতি রোধ করা এবং স্বল্পকালীন ভ্রমণকারীদের যাতায়াত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করা। এর ফলে বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ পাসপোর্টে সিলের জন্য অপেক্ষা করার চিরাচরিত দৃশ্যটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি অবৈধ অভিবাসন রুখতে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানকারীদের শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। যদিও এই নতুন পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে চেক-ইন কাউন্টারে সামান্য সময় বেশি লাগতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইউরোপের আকাশপথ ও স্থলপথের যাতায়াত ব্যবস্থাকে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজ করবে। অ-ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য এই নিয়মটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণে আসা ব্যক্তিদের এখন থেকে ডিজিটাল রেকর্ড মেনেই যাতায়াত করতে হবে।
