রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬   |   ২০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘মাইগ্রেশন এবং অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ ফ্রান্সে বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় আলোচনা ছাড়াই সরাসরি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করতে চায় ফরাসি সরকার। গত বুধবার ফরাসি সিনেটে এক জবাবদিহিতা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরো নুনেজ এই পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমানে সংসদে সরকারের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতেই এই বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফ্রান্সের বর্তমান ‘বিদেশীদের প্রবেশ ও অবস্থান আইন’ (CESEDA)-এর প্রায় ৪০ শতাংশ ইইউ-এর নতুন বিধিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনটি সংস্কার করতে না পারলে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই দ্রুত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আগামী ২০ থেকে ২২ মে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। প্রস্তাবটি পাশ হলে জুলাই নাগাদ অধ্যাদেশের মাধ্যমে নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হতে পারে। তবে ফরাসি আদালতের সতর্কবাণী অনুযায়ী, ১২ জুনের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ না হলে তা অভিবাসীদের অধিকার চর্চায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন এই চুক্তির অধীনে ফ্রান্সের বিমানবন্দরগুলোতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ‘ফিল্টারিং’ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের প্রোফাইল ও ইউরোড্যাক ডেটাবেস যাচাই করে দেখা হবে তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না। তবে সংসদীয় আলোচনা এড়িয়ে ‘খালি চেকে’ সই করার মতো এই সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ফরাসি পার্লামেন্টের আইন কমিটির সভাপতি মুরিয়েল জর্দা। ইউরোপজুড়ে এই আইন নিয়ে ঐক্যের ডাক দিলেও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এখনও এর বিরোধিতা করে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version