মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়মগুলো আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। গত সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ক কমিটি একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। এই আইনে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর হার বাড়াতে পুলিশকে মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানোর ক্ষমতা এবং ইউরোপের বাইরে বিশেষ ‘আটক কেন্দ্র’ বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের মূল দিকগুলো:

এই আইন পাস হলে ইউরোপের দেশগুলো চাইলে অনিয়মিত অভিবাসীদের ইউরোপের সীমানার বাইরের কোনো দেশে (তৃতীয় দেশ) পাঠিয়ে দিতে পারবে, যতক্ষণ না তাদের নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে ‘রিটার্ন হাব’। এছাড়া, অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনে যে কারো বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালানোর অনুমতি পাবে পুলিশ। এমনকি অভিবাসীদের আটক রাখার মেয়াদ বাড়িয়ে দুই বছর পর্যন্ত করার প্রস্তাবও এতে রয়েছে।

এই আইনটি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রক্ষণশীল ও ডানপন্থী দলগুলো এই কঠোর আইনের পক্ষে ভোট দিলেও বামপন্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। বিরোধীদের মতে, ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানোর এই নিয়মটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদাহানি করবে। অনেক এনজিও এই পদ্ধতিকে আমেরিকার বিতর্কিত ‘আইসিই’ স্টাইল অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।

বর্তমানে ইইউ দেশগুলোতে অভিবাসীদের বহিষ্কারের যে আদেশ দেওয়া হয়, তার মাত্র ২০ শতাংশ কার্যকর হয়। এই হার বাড়াতেই নতুন আইনের তোড়জোড় চলছে। সংসদীয় কমিটিতে পাস হওয়ার পর এখন এটি পুরো ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোটের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে পাস হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হতে পারে। এর ফলে ইউরোপে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version