মঙ্গলবার, ২৮ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ও আমেরিকার চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ রণতরী পাঠানো নিয়ে শুরু হওয়া নাটকীয়তায় নতুন মোড় নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করেছে যে, তাদের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’-কে আর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বিদ্রূপ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর তার চাপের পরেই ব্রিটেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহেই ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজটিকে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। তখন মনে করা হচ্ছিল, ব্রিটেন হয়তো আমেরিকার সাথে মিলে ইরান অভিযানে অংশ নেবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে উপহাস করে লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, আমাদের আর আপনাদের দরকার নেই। যুদ্ধ তো আমরা আগেই জিতে নিয়েছি! যারা জেতা যুদ্ধে যোগ দিতে আসে, তাদের আমাদের প্রয়োজন নেই।” ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পরই ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। যদিও সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছে, ট্রাম্পের কথার কারণে এই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়নি।

বর্তমানে ব্রিটেনের অন্য একটি বড় রণতরী মেরামতের কাজে আটকে থাকায় সেটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’ না যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের সরাসরি নৌ-অভিযানের সম্ভাবনা আপাতত শেষ। তবে ব্রিটেন সরাসরি যুদ্ধে না গেলেও আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে। গত রবিবার রাতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান জর্ডান ও বাহরাইনের দিকে ধাবমান দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বোমারু বিমানকেও অনুমতি দিয়েছেন স্টারমার।

জরিপ বলছে, ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ (প্রায় ৫৯ শতাংশ) এই যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে। ফলে স্টারমারের এই পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যেও স্বস্তি এনেছে। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, ট্রাম্পের সাথে স্টারমারের সম্পর্ক এখন বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এমনকি এই উত্তেজনার কারণে আগামী মাসে রাজা চার্লসের আমেরিকা সফরও বাতিল করার দাবি তুলেছেন অনেক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version