ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধ মাদক ব্যবহারের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ইউরোপের ২৫টি দেশের ১১৫টি শহরের বর্জ্যজল বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিচালিত ২০২৪-২৫ সালের এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এমডিএমএ বা ‘এক্সট্যাসি’ নামক মাদকের ব্যবহার আকস্মিক ও বড় ব্যবধানে কমে যাওয়া। গত বছরের তুলনায় বর্জ্যজলে এই মাদকের অবশিষ্টাংশ প্রায় ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক্সট্যাসির বদলে অন্য মাদকের প্রতি ঝোঁক তৈরি হওয়া এই পতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
এক্সট্যাসির ব্যবহার কমলেও কোকেন এবং কেটামিনের ব্যবহার ইউরোপ জুড়ে ভয়াবহভাবে বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বর্জ্যজলে কোকেনের পরিমাণ বেড়েছে ২২ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক বৃদ্ধিরই অংশ। তবে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে কেটামিন; এর উপস্থিতি বেড়েছে রেকর্ড ৪১ শতাংশ। মূলত তরুণদের মধ্যে কেটামিনের সহজলভ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এই উচ্চ হারের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকরা। এর পাশাপাশি ক্যানাবিস বা গাঁজা এখনও ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাদক হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যা গত বছর প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ ব্যবহার করেছেন।
ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ব্যবহারের ধরনেও বৈচিত্র্য দেখা গেছে। বেলজিয়াম, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের শহরগুলোতে এমডিএমএ ও কোকেনের সর্বোচ্চ উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে অ্যাম্ফিটামিন এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ায় মেথাম্ফিটামিনের ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে যে, কোকেন এবং এমডিএমএ সাধারণত সপ্তাহান্তের ছুটিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ক্যানাবিস এবং মেথাম্ফিটামিনের মতো মাদকগুলো পুরো সপ্তাহ জুড়ে নিয়মিতভাবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে।
