যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ঘটলেও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এখনই স্বস্তি ফিরছে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর মতে, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও ইউরোপ সরাসরি হরমুজ প্রণালীর ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়, তবে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থার চড়া মূল্য এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে এই অঞ্চলে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম আরও দীর্ঘকাল বেশি থাকতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন জানিয়েছেন, শান্তি ফিরলেও অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। যুদ্ধের আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২-৭৩ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৯৩ ডলারে স্থির হয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে অন্তত ২০ ডলার বেশি। এছাড়া যুদ্ধের ফলে কাতারের মতো বড় বড় এলএনজি প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কাতার এনার্জির উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানির এই উচ্চমূল্যের পেছনে কেবল উৎপাদন ঘাটতি নয়, বরং জাহাজ ভাড়ার উচ্চ হার এবং বিমা খরচকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের কারণে ট্যাঙ্কার ভাড়া রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে এবং জাহাজ চলাচলের বিমা প্রিমিয়াম চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে ইউরোপের গ্যাস ও তেলের মজুত ভান্ডার পুনরায় পূর্ণ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। ফলে স্থায়ী শান্তি চুক্তি হলেও ইউরোপের সাধারণ মানুষকে পেট্রোল পাম্পে বা বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে আরও কয়েক মাস বাড়তি দাম গুনতে হতে পারে।
