বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬   |   ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসা রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহ ও গরমের কারণে ফ্রান্সে মাত্র কয়েক দিনেই প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দেশটিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে গরম দিন রেকর্ড করা হয়, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। দেশের সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে সাধারণ সময়ের চেয়ে হঠাৎ করে মৃত্যু অনেক বেড়ে গেছে।

এই রেকর্ড গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী প্যারিস এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো। মারা যাওয়া মানুষদের মধ্যে ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের ওপরে, অর্থাৎ বয়স্করাই এই গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন ও মারা গেছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, গরমের চাপ সামলাতে প্যারিসের বিখ্যাত ‘প্রাইড মার্চ’ (উৎসবের র‍্যালি) স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে পর্যটকদের বাঁচাতে আইফেল টাওয়ার ও বিশ্বখ্যাত লুভ্‌ জাদুঘর সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

তীব্র গরম ও অস্বস্তি থেকে বাঁচতে নদী বা জলাশয়ে নামছেন অনেকে। কিন্তু অসাবধানতাবশত পানিতে নেমে দেশে মোট ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোন নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা গেছেন ফ্রান্সের দ্বিতীয় স্তরের ফুটবল লিগের ২১ বছর বয়সী তরুণ খেলোয়াড় কেনজো কিস। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রশাসন এখন অনুমতি বা লাইফগার্ড ছাড়া যেকোনো নদী বা লেকে সাঁতার কাটার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

শুধু ফ্রান্সই নয়, ইউরোপের অন্য বড় দেশ যেমন- যুক্তরাজ্য, স্পেন ও জার্মানিতেও তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে স্পেনে চলমান এই চরম গরমে এ পর্যন্ত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপে এখন ঘন ঘন এমন রেকর্ড ভাঙা গরম পড়ছে, যা পুরো মহাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে একদম বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version