রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ডিজিটাল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কানাডীয় পর্যটকরা ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফ্লাইট মিস করার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। লিসবন, প্যারিস এবং রোমের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে বায়োমেট্রিক কিয়স্কগুলোর ধীরগতি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। লিসবন বিমানবন্দরে এক কানাডীয় পর্যটক জানান, তাঁর পাসপোর্ট মেশিনে ২০ বার চেষ্টা করার পরও কাজ না করায় শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন অফিসারের ম্যানুয়াল সহায়তার প্রয়োজন হয়।

নতুন এই ইইএস ব্যবস্থাটি মূলত অ-ইউরোপীয় পর্যটকদের পাসপোর্ট স্ট্যাম্প করার পরিবর্তে একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করে। এতে পর্যটকদের আঙুলের ছাপ এবং মুখমণ্ডলের ছবি সংগ্রহ করা হয়। আয়ারল্যান্ড ও সাইপ্রাস বাদে শেঞ্জেন এলাকার ২৯টি দেশে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, এই সিস্টেমের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ সম্পন্ন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে রোম ও প্যারিসের মতো বিমানবন্দরে অপর্যাপ্ত বুথ এবং যান্ত্রিক অকার্যকারিতার কারণে সাধারণ পর্যটকদের বিড়ম্বনা চরমে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন। ভুক্তভোগী পর্যটকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আগে পৌঁছানো উচিত। বিশেষ করে যারা কানেক্টিং ফ্লাইট ধরবেন, তাঁদের জন্য হাতে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুবা বিমানবন্দরের এই ‘বটলনেক’ বা দীর্ঘ যানজটের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরণের ভ্রমণ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিএনএন ব্লুমবার্গ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version