ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ ফিনল্যান্ডে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের সবচেয়ে আলোচিত বিধানগুলোর একটি হলো, ইনকাম–বেইজড স্পিডিং ফাইন সিস্টেম- অর্থাৎ, আপনি রাস্তার গতিসীমা অতিক্রম করলে পুলিশ আপনার বার্ষিক আয় অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করবে। ফলে সমাজে ধনী ও সাধারণ মানুষের জন্য আইন প্রয়োগে সমতা বজায় থাকে।
আয়ভিত্তিক জরিমানার কারণ
ফিনল্যান্ড মনে করে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা ধনীদের জন্য কোনো শাস্তি নয়। তাই আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে ফাইন নির্ধারণ করলে সবার জন্য আইন সমান কার্যকর হয়। যে বেশি আয় করে, সে বেশি পরিমাণ জরিমানা দেবে, এটাই ন্যায়সংগত ব্যবস্থা। এই জরিমানাকে বলা হয় ’দৈনিক আয়ভিত্তিক জরিমানা পদ্ধতি’ (Day-Fine System), যেখানে জরিমানার পরিমাণ হিসাব করা হয় ব্যক্তির দৈনিক উপার্যন অনুযায়ী।
যেভাবে হিসাব করা হয়
পুলিশের কন্ট্রোল সিস্টেমে সকলের সর্বশেষ ট্যাক্স রিটার্ন থাকে। সেখান থেকে দৈনিক কার কত আয় সেটি বের করা হয়। গতি কতটা বেশি বা কম ছিল তার ওপর নির্ভর করে, ৩, ৫ ও ১০ বা তার বেশি দৈনিক জরিমানা যুক্ত হয়। আর এভাবেই আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানা হিসাব করে নির্ধারণ করা হয়। ফলে একই অপরাধে দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিমাণ জরিমানা দিতে পারেন।
ধনীদের জন্য বেশি কঠোরতা
ফিনল্যান্ডে অতীতে বহু উচ্চ ধনী, ব্যবসায়ী, এমনকি সেলিব্রিটিকেও বিপুল অঙ্কের স্পিডিং ফাইন করতে হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত এক ঘটনার মধ্যে রয়েছে, এক ফিনিশ ব্যবসায়ীকে একবার ১ লাখ ইউরোর বেশি জরিমানা করা হয়েছিল। কারণ, তার বার্ষিক আয় ছিল কয়েক মিলিয়ন ইউরো। ফলে সামান্য স্পিড ভাঙলেও ফাইন হয়েছে অত্যন্ত বেশি। এ ছাড়া নোকিয়া কোম্পানির এক নির্বাহীও একবার প্রায় ৫৪ হাজার ইউরো ফাইন দিয়েছিলেন।
মিলিয়নিয়ার, উচ্চ বেতনের কর্পোরেট কর্মী, ব্যবসায়ী ও বড় কোম্পানির মালিক ও সেলিব্রিটি অ্যাথলেটদের জন্য এ নিয়ম বেশি কঠোর করা হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণের জন্য স্পিডিং ফাইন তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ তাদের দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
সামাজিক প্রভাব
এই অনন্য সিস্টেমটি ফিনল্যান্ডকে ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ রাস্তা ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করেছে।
এখন মানুষ স্পিড ভাঙতে ভয় পায়, বিশেষত ধনী ও উচ্চ আয়ের লোকেরা। ফলে সড়কে নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক দেশ এই মডেল অনুসরণ করতে আগ্রহী।
সড়ক আইনের এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিনল্যান্ড দেখিয়েছে যে, শুধু কঠোর আইন নয়, ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা আইনই কার্যকর হয়। আয়-ভিত্তিক জরিমানা ব্যবস্থার ফলে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হয়, যা আধুনিক ও ন্যায়সঙ্গত শাস্তির একটি সফল উদাহরণ।
