রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬   |   ৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। পাঁচ দেশ যৌথ বিবৃতিতে এই পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ই১’ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি আবাসন ইউনিট নির্মাণে ইসরায়েলের দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, এই উদ্যোগ শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকে দুর্বল করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিবও পৃথক বিবৃতিতে ই১ প্রকল্পকে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও।

জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ই১ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করে আসছে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কয়েক দশক ধরে সেখানে বড় ধরনের নির্মাণকাজ থেকে বিরত ছিল দেশটি।

ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের অনেক মিত্রের আশঙ্কা, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এতে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

বুধবার ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় ই১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর আগে গত বছরের আগস্টে ইসরায়েলি সরকার মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। নতুন দরপত্র সেই অনুমোদনেরই একটি অংশ।

প্রকল্পটির আওতায় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। সেখানে বসবাসকারী বেদুইন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি শান্তিকামী গোষ্ঠীগুলো আদালতে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ চলার মধ্যেই দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী ও বসতিপন্থী নেতা বেজালেল স্মোটরিচ এর আগে ই১ প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশের সময় বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।

দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র আট দিন পর, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে দরপত্রের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলে ভবিষ্যতের কোনো সরকার চাইলে প্রকল্পটি বাতিল করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজাকে নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে।

বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি ইসরায়েলি বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে বসবাস করছেন প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিরোধিতা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি সরকারগুলো এসব বসতি সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়ে আসছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী ও বসতিপন্থী দলগুলোর জোট নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর এই সম্প্রসারণের গতি আরও বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল এই অবস্থান স্বীকার করে না।

ই১ প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও নষ্ট হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version