স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতার ‘এল ত্রামপোলিন’ সৈকত ও ‘লোমা কোলমেনার’ এলাকায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো হাজার হাজার অভিবাসীকে সরিয়ে নিয়েছে স্প্যানিশ পুলিশ। পার্শ্ববর্তী মরক্কো থেকে সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ডসংখ্যক অনুপ্রবেশের পর তাদের সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে স্পেনের জাতীয় পুলিশ এবং সিভিল গার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে এই উচ্ছেদ ও স্থানান্তর অভিযান শুরু করেন। সেউতার আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসীদের ‘লোমা মারগারিটা’ এবং ‘এল এমবোলসামিয়েন্টো’ নামের দুটি নবনির্মিত আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৪,০০০ অভিবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কয়েকটি সূত্র এই সংখ্যা ১,৫০০ বলে উল্লেখ করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ হয়। তবে এরপরও কিছু ছোট দলকে সৈকতের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে, যারা বুঝতে পারছিলেন না তাদের এখন কোথায় যাওয়া উচিত।
স্পেনের অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ বৃহস্পতিবার সেউতা সফর করেন এবং বেসরকারি সংস্থা ‘মেডিসিন্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রস্তুত হওয়া দুটি আশ্রয়শিবিরে প্রায় ১,৮০০ মানুষের থাকার জায়গা রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ করে। খোলা আকাশের নিচে সৈকতে আশ্রয় নেওয়া এই মানুষদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত অমানবিক হয়ে উঠেছিল। কয়েক হাজার মানুষের ব্যবহারের জন্য ছিল মাত্র দুটি শৌচাগার ও সীমিতসংখ্যক গোসলখানা। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতিবাদে অভিবাসীদের একাংশ অনশন ধর্মঘট শুরু করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। এই মানবেতর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতেই সরকার তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রী এলমা সাইজ আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে আরও কয়েকটি স্থান যেমন—হিপিকা স্থাপনা, কাবালেরিয়া ব্যারাকের পুরোনো ফুটবল মাঠ এবং ‘এল গুয়ানো’ নামের একটি এলাকায় অস্থায়ী আবাসন তৈরির কাজ চলছে।
নতুন এই মানবিক আশ্রয়শিবিরগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেলে সেখানে প্রায় ৪,০০০ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই জরুরি কার্যক্রমে ‘এনগ্লোবা’ এবং ‘এসিসিইএম’-এর মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও যুক্ত রয়েছে। সেখানে অভিবাসীদের আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের নথিপত্র যাচাই, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মূল্যায়ন এবং যোগ্য না হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের কোনো সুযোগ না থাকায় এবং মরক্কোর নাগরিকদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
