ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়া সফর করেছেন জার্মান বুন্দেসটাগ প্রেসিডেন্ট জুলিয়া ক্লকনার। ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং হাইব্রিড অ্যাটাক মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দিতেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জুলিয়া ক্লকনার তার সফরের শুরুতে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিশাল এবং লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিটানাস নৌসেদার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এস্তোনিয়ার ডিজিটাল শাসনের প্রশংসা করে তিনি জানান, এস্তোনিয়ার উচ্চপর্যায়ের ডিজিটালাইজেশন এবং পাবলিক সার্ভিসের দক্ষতা থেকে জার্মানির অনেক কিছু শেখার আছে। উল্লেখ্য, এস্তোনিয়ার ৭৯% নাগরিক বিশ্বাস করেন যে ডিজিটালাইজেশন তাদের জীবন সহজ করেছে। বৃহস্পতিবার ক্লকনার লিথুয়ানিয়ায় মোতায়েনরত জার্মান বুন্দেসওয়েহর ব্রিগেড পরিদর্শন করেন। ২০২৭ সালের মধ্যে লিথুয়ানিয়ার স্থানীয় সামরিক বাহিনীকে সহায়তার জন্য প্রায় ৫,০০০ জার্মান সৈন্য সেখানে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সরকারি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭৪% জার্মান শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজেদের সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করে। এই পরিস্থিতিতে বাল্টিক দেশগুলোর অভিজ্ঞতা জার্মানির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
